+8801716-768210    info@azadhomoeohall.com

মাইগ্রেনের প্রকারভেদ

মাইগ্রেন বিভিন্ন উপায়ে প্রকাশ পেতে পারে, এবং এর নির্দিষ্ট প্রকারটি জানা থাকলে তা বুঝতে এবং নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুবিধা হয়। এখানে কিছু সাধারণ প্রকারভেদ আলোচনা করা হলো:


১. অরাসহ মাইগ্রেন (Migraine with Aura)

এই প্রকারের মাইগ্রেনে মূলত কিছু সংবেদনশীল ব্যাঘাত (সেন্সরি ডিস্টার্বেন্স) দেখা যায় যা সাধারণত মাইগ্রেন আক্রমণ শুরু হওয়ার আগে বা স্থায়িত্বকালে ঘটে থাকে। এগুলোকে অরা বলা হয়। চোখের সামনে আলোক ঝলকানি, আঁকাবাঁকা রেখা বা ব্লাইন্ড স্পট দেখার মতো চাক্ষুষ সমস্যাগুলোই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। কিছু মানুষ হাতে-পায়ে ঝিনঝিন করা বা অবশ ভাব হওয়া এবং এমনকি কথা বলার সমস্যার মতো সংবেদনশীল পরিবর্তনেরও সম্মুখীন হতে পারেন। এই স্নায়বিক উপসর্গগুলো সাধারণত ধীরে ধীরে 5 থেকে 20 মিনিটের মধ্যে তৈরি হয় এবং এক ঘণ্টারও কম সময় স্থায়ী হয়।

২. অরাবিহীন মাইগ্রেন (Migraine without Aura)

এটি মাইগ্রেনের সবচেয়ে সাধারণ প্রকার। কোনো পূর্ববর্তী অরার উপসর্গ ছাড়াই এটি ঘটে থাকে। এর প্রধান লক্ষণ হলো মাথাব্যথা নিজে, যা প্রায়শই মাথার একপাশে দপদপে বা কম্পনশীল ব্যথা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। সাধারণত এটি মাঝারি থেকে তীব্র আকারের হয় এবং শারীরিক পরিশ্রমের কারণে আরও বেড়ে যেতে পারে। মাথাব্যথার সাথে প্রায়শই বমি বমি ভাব, বমি হওয়া এবং আলো ও শব্দের প্রতি উচ্চ সংবেদনশীলতা দেখা দেয়।

২. অরাবিহীন মাইগ্রেন (Migraine without Aura)

এটি মাইগ্রেনের সবচেয়ে সাধারণ প্রকার। কোনো পূর্ববর্তী অরার উপসর্গ ছাড়াই এটি ঘটে থাকে। এর প্রধান লক্ষণ হলো মাথাব্যথা নিজে, যা প্রায়শই মাথার একপাশে দপদপে বা কম্পনশীল ব্যথা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। সাধারণত এটি মাঝারি থেকে তীব্র আকারের হয় এবং শারীরিক পরিশ্রমের কারণে আরও বেড়ে যেতে পারে। মাথাব্যথার সাথে প্রায়শই বমি বমি ভাব, বমি হওয়া এবং আলো ও শব্দের প্রতি উচ্চ সংবেদনশীলতা দেখা দেয়।

৩. ক্রনিক মাইগ্রেন (Chronic Migraine)

আক্রমণের পুনরাবৃত্তির হারের মাধ্যমে ক্রনিক বা দীর্ঘস্থায়ী মাইগ্রেন নির্ধারণ করা হয়। এতে কমপক্ষে তিন মাস ধরে প্রতি মাসে 15 দিন বা তার বেশি সময় মাথাব্যথা অনুভব করার বিষয়টি জড়িত। এই মাথাব্যথার দিনগুলোর মধ্যে অন্তত আট দিন মাঝারি থেকে তীব্র মাথাব্যথা, দপদপে ব্যথা, মাথার একপাশে ব্যথা হওয়া বা আলো ও শব্দের প্রতি সংবেদনশীলতার মতো মাইগ্রেনের লক্ষণ থাকতে হবে। এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাটি দৈনন্দিন জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

৪. অ্যাবডোমিনাল মাইগ্রেন (Abdominal Migraine)

শিশুদের মধ্যে সাধারণত বেশি দেখা যায়, অ্যাবডোমিনাল মাইগ্রেন বা পেটের মাইগ্রেনের প্রধান লক্ষণ হলো বারবার পেটে মাঝারি থেকে তীব্র ব্যথা হওয়া, যার সাথে প্রায়শই বমি বমি ভাব এবং বমি হয়। এই সময়ে মাথাব্যথা থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে পেটের মাইগ্রেন অনেক সময় ক্লাসিক মাইগ্রেনের মাথাব্যথায় রূপান্তরিত হতে পারে।

৫. অকুলার মাইগ্রেন (Ocular Migraine)

এটি রেটিনাল মাইগ্রেন নামেও পরিচিত, এই প্রকারের মাইগ্রেন যেকোনো একটি চোখের দৃষ্টিশক্তিকে প্রভাবিত করে। এর কারণে সেই চোখে সাময়িকভাবে আংশিক বা সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পেতে পারে, যার সাথে চোখের পেছনে মৃদু ব্যথা হতে পারে যা পরবর্তীতে পুরো মাথায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। দৃষ্টিশক্তির যেকোনো হঠাৎ পরিবর্তন দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৬. ভেস্টিবুলার মাইগ্রেন (Vestibular Migraine)

মাইগ্রেনের এই রূপটি মূলত শরীরের ভারসাম্যের অনুভূতিকে প্রভাবিত করে। রোগীরা ভার্টিগো (মাথা ঘোরানো), মাথা ঝিমঝিম করা এবং ভারসাম্যের সমস্যা অনুভব করতে পারেন, যার সাথে প্রায়শই বমি বমি ভাব এবং বমি হয়। ভেস্টিবুলার মাইগ্রেন চলাকালীন মাথাব্যথা থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে। যাদের মোশন সিকনেস (গতির কারণে বমি ভাব বা মাথাব্যথা) রয়েছে তাদের মধ্যে এটি প্রায়শই দেখা যায়।

৭. হেমিপ্লেজিক মাইগ্রেন (Hemiplegic Migraine)

এটি মাইগ্রেনের একটি বিরল কিন্তু গুরুতর প্রকার যা শরীরের একপাশে সাময়িক দুর্বলতা বা পক্ষাঘাত (প্যারালাইসিস) সৃষ্টি করে। অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে অবশ ভাব, ঝিনঝিন করা এবং দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। যেহেতু এই উপসর্গগুলো স্ট্রোকের মতো মনে হতে পারে, তাই এগুলো দেখা দিলে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।