+8801716-768210    info@azadhomoeohall.com

মাইগ্রেন রোগের ধরন কি কি?

মাইগ্রেন প্রধানত কয়েকটি প্রধান ধরণ ও উপ-ধরনের হতে পারে। এর লক্ষণ, তীব্রতা এবং স্থায়ীত্বের ওপর ভিত্তি করে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:


১. অরাবিহীন মাইগ্রেন (Migraine without Aura)

এটি সবচেয়ে সাধারণ মাইগ্রেন, যা প্রায় ৭০-৮০% রোগীর ক্ষেত্রে দেখা যায়।
(ক) লক্ষণ: কোনো আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই হঠাৎ মাথাব্যথা শুরু হয়। মাথার একপাশে দপদপে ব্যথা হয়, যা কায়িক পরিশ্রমে বাড়ে।
(খ) সংগে থাকা লক্ষণ: বমি বমি ভাব, বমি হওয়া, সাধারণ আলো ও শব্দ সহ্য করতে না পারা। ব্যথা সাধারণত ৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

২. অরাসহ মাইগ্রেন (Migraine with Aura)

এই ধরণের মাইগ্রেনে মূল মাথাব্যথা শুরু হওয়ার ৫ থেকে ৬০ মিনিট আগে কিছু সংবেদনশীল ও স্নায়বিক সংকেত দেখা যায়, যাকে 'অরা' বলা হয়।
(ক) দৃশ্যমান লক্ষণ: চোখের সামনে আলোর ঝলকানি, আঁকাবাঁকা উজ্জ্বল রেখা বা অন্ধবিন্দু (Blank spots) দেখা।
(খ) শারীরক লক্ষণ: হাত বা মুখে ঝিনঝিন করা, অসাড় ভাব বা সূঁচ ফোটার মতো অনুভূতি।
(গ) অন্যান্য: কথা বলতে বা ভাষা প্রকাশ করতে অসুবিধা হওয়া।

৩. ক্রনিক মাইগ্রেন (Chronic Migraine)

যখন মাইগ্রেন দীর্ঘস্থায়ী ও অতিমাত্রায় দেখা দেয়, তখন তাকে ক্রনিক মাইগ্রেন বলা হয়।
(ক) নির্ণায়ক: যদি টানা ৩ মাস ধরে প্রতি মাসে অন্তত ১৫ দিন বা তার বেশি মাথাব্যথা থাকে এবং এর মধ্যে অন্তত ৮ দিন মাইগ্রেনের নির্দিষ্ট লক্ষণ যুক্ত থাকে।
(খ) প্রভাব: এটি রোগীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও কার্যক্ষমতাকে গুরুতরভাবে ব্যাহত করে।

৪. এপিসোডিক মাইগ্রেন (Episodic Migraine)

(ক) নির্ণায়ক: এটি ক্রনিক মাইগ্রেনের বিপরীত। এতে মাসে ১৫ দিনের কম সময় মাথাব্যথা হয় (যেমন—মাসে ১ থেকে ৪ বার)।
তবে সময়মতো চিকিৎসা না নিলে এটি পরবর্তীতে ক্রনিক মাইগ্রেনে রূপান্তরিত হতে পারে।

৫. সাইলেন্ট বা হেডেকলেস মাইগ্রেন (Silent / Acephalgic Migraine)

(ক) লক্ষণ: এই ক্ষেত্রে রোগীর অরার লক্ষণগুলো (যেমন—আলোর ঝলকানি, সংবেদনশীলতা, বমি ভাব) প্রকাশ পায়, কিন্তু কোনো ধরনের মাথাব্যথা হয় না।

৬. হেমিপ্লেজিক মাইগ্রেন (Hemiplegic Migraine)

এটি একটি অত্যন্ত বিরল এবং গুরুতর ধরনের মাইগ্রেন।
(ক) লক্ষণ: মাথাব্যথার সাথে শরীরের যেকোনো একপাশ সাময়িকভাবে অবশ, দুর্বল বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত (Paralyzed) হয়ে পড়ে। অনেক সময় স্ট্রোকের লক্ষণের সাথে এটি গুলিয়ে যেতে পারে।

৭. রেটিনাল মাইগ্রেন (Retinal Migraine)

(ক) লক্ষণ: এতে মাথাব্যথার সাথে সাথে যেকোনো একটি চোখে সাময়িকভাবে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, ঝাপসা দেখা বা অন্ধত্ব তৈরি হতে পারে। ব্যথা কমে গেলে চোখের দৃষ্টি আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়।

৮. অ্যাবডোমিনাল মাইগ্রেন (Abdominal Migraine)

(ক) লক্ষণ: এটি প্রধানত শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। এতে মাথার ব্যথার চেয়ে পেটে তীব্র ব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি এবং খিদে কমে যাওয়ার লক্ষণ প্রাধান্য পায়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এটি সাধারণ মাইগ্রেনে রূপ নিতে পারে।