আপনি বা আপনার সঙ্গী এক বছর চেষ্টা করার পরেও গর্ভধারণে ব্যর্থ হন, তাহলে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। যদি এক বছর চেষ্টা করার পরেও কোনো দম্পতি সন্তান ধারণে ব্যর্থ হন, তাহলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এই পরামর্শটি বিশেষ করে পুরুষ বন্ধ্যাত্বের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেন এবং কখন এই পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, তা নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:
সাধারণত, একজন সুস্থ দম্পতি নিয়মিত ও অসুরক্ষিত যৌন মিলনের মাধ্যমে এক বছরের মধ্যে সন্তান ধারণ করতে পারেন। এর কারণ হলো, গর্ভাবস্থা একটি জটিল প্রক্রিয়া এবং এটি সবসময় প্রথম বা দ্বিতীয়বার চেষ্টাতেই সফল হয় না। কিন্তু যদি এক বছর ধরে নিয়মিত চেষ্টা করার পরেও গর্ভাবস্থা না আসে, তখন এটিকে বন্ধ্যাত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই সময়সীমা পার হওয়ার পর চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত, কারণ এর পেছনে কোনো শারীরিক কারণ থাকতে পারে, যা শনাক্ত করে চিকিৎসা করা প্রয়োজন।
আপনি যদি নিচে দেওয়া যেকোনো পরিস্থিতির সম্মুখীন হন, তাহলে এক বছর অপেক্ষার আগেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত:
(ক) যদি স্ত্রীর বয়স ৩৫ বছরের বেশি হয়: এই বয়সে ডিম্বাণুর
সংখ্যা এবং গুণগত মান কমতে শুরু করে। তাই, ছয় মাস চেষ্টা করার পরেও যদি গর্ভাবস্থা না আসে, তবে দ্রুত একজন
উর্বরতা বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা উচিত।
(খ) যদি পুরুষের বয়স ৪০-এর বেশি হয়: পুরুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে শুক্রাণুর গুণগত
মান এবং গতিশীলতা কমে যেতে পারে।
যদি পুরুষের শরীরে কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা যায়, যা বন্ধ্যাত্বের ইঙ্গিত দেয়, তাহলে দেরি
না করে একজন বিশেষজ্ঞের সাথে দেখা করা উচিত। এই লক্ষণগুলো হলো:
(ক) বীর্যে শুক্রাণুর অনুপস্থিতি বা কম শুক্রাণু: এটি শুধু পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা সম্ভব। তাই বীর্য
বিশ্লেষণ (semen analysis) করানো জরুরি।
(খ) শুক্রাণুর গতিশীলতা বা আকারের অস্বাভাবিকতা।
(গ) অণ্ডকোষে ব্যথা, ফোলা বা কোনো ধরনের পিণ্ড অনুভব করা, যেমন - ভেরিকোসিল।
(ঘ) শারীরিক বা যৌন কার্যকারিতায় সমস্যা, যেমন - ইরেক্টাইল ডিসফাংশন বা বীর্যপাতে সমস্যা
(যেমন - রেট্রোগ্রেড ইজাকুলেশন)।
(ঙ) হরমোনের ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ, যেমন - মুখের বা শরীরের লোম কমে যাওয়া বা স্তনের
অস্বাভাবিক বৃদ্ধি।
(চ) বারবার শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ।
যদি পুরুষের আগে থেকেই কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যা থেকে থাকে, তবে দ্রুত চিকিৎসকের
পরামর্শ নেওয়া উচিত। এর মধ্যে রয়েছে:
(ক) অণ্ডকোষে আঘাত বা সার্জারি।
(খ) মূত্রনালীর সংক্রমণ বা অপারেশন।
(গ) ডায়াবেটিস, কিডনি বা হৃদরোগের মতো দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা।
(ঘ) পূর্বে কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশন থেরাপি নেওয়া।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রথমে দম্পতির উভয়েরই বিস্তারিত স্বাস্থ্য ইতিহাস নেবেন। এরপর পুরুষের
জন্য কিছু পরীক্ষা করানো হতে পারে:
(ক) বীর্য বিশ্লেষণ (Semen Analysis): এটি শুক্রাণুর সংখ্যা, গতিশীলতা, আকার এবং বীর্যের পরিমাণ
পরীক্ষা করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
(খ) হরমোন পরীক্ষা (Hormone Test): রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে টেস্টোস্টেরন এবং অন্যান্য হরমোনের মাত্রা
পরীক্ষা করা হয়।
(গ) আল্ট্রাসাউন্ড (Ultrasound): অণ্ডকোষে কোনো সমস্যা, যেমন - ভেরিকোসিল বা টিউমার আছে
কিনা, তা দেখার জন্য।
(ঘ) জেনেটিক পরীক্ষা (Genetic Test): কিছু ক্ষেত্রে জিনগত সমস্যার কারণে বন্ধ্যাত্ব হতে পারে, যা
নির্ণয়ের জন্য এই পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসক উপযুক্ত চিকিৎসা পদ্ধতির পরামর্শ দেন,
যেমন - জীবনযাত্রার পরিবর্তন, ওষুধ, হরমোন থেরাপি বা প্রয়োজনে অস্ত্রোপচার। যদি আপনার বা আপনার সঙ্গীর কোনো উদ্বেগ
থাকে, তবে তা নিয়ে আলোচনা করার জন্য একজন চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দ্রুত সমস্যা শনাক্ত
হলে চিকিৎসার মাধ্যমে সফলতার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।