+8801716-768210    info@azadhomoeohall.com

পুরুষ বন্ধ্যাত্বের (বীর্যপাতের সমস্যা Ejaculation Problems)

বীর্যপাতের সমস্যা সরাসরি শুক্রাণু উৎপাদনকে প্রভাবিত করে না, তবে এটি শুক্রাণুকে নারীর প্রজননতন্ত্রে পৌঁছাতে বাধা দেয়। এর ফলে স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ করা কঠিন বা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এই ধরনের সমস্যা বিভিন্ন কারণে হতে পারে—শারীরিক, মানসিক বা হরমোনজনিত।


বীর্যপাতের প্রধান সমস্যাগুলো:

১. রেট্রোগ্রেড ইজাকুলেশন (Retrograde Ejaculation)

এটি বীর্যপাতের একটি অস্বাভাবিক অবস্থা, যেখানে বীর্য লিঙ্গ থেকে বাইরে না এসে উল্টো দিকে মূত্রাশয়ের (bladder) ভেতরে চলে যায়।
যেভাবে ঘটে: সাধারণত, বীর্যপাতের সময় মূত্রথলির মুখ (bladder neck) শক্তভাবে বন্ধ হয়ে যায়, যাতে বীর্য মূত্রাশয়ে প্রবেশ না করে এবং মূত্রনালী দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। রেট্রোগ্রেড ইজাকুলেশনের ক্ষেত্রে এই পেশি ঠিকমতো কাজ করে না, ফলে বীর্য মূত্রাশয়ে ফিরে যায়।

কারণ:

স্নায়ুর ক্ষতি: ডায়াবেটিস, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, স্পাইনাল কর্ডে আঘাত বা কিছু সার্জারির (যেমন - প্রোস্টেট সার্জারি বা মূত্রাশয়ের অপারেশন) কারণে স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই সমস্যা হতে পারে।
নির্দিষ্ট ওষুধ: কিছু উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ বা বিষণ্ণতানাশক ওষুধের (antidepressants) পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবেও এটি হতে পারে।
শারীরবৃত্তীয় ত্রুটি: জন্মগতভাবে মূত্রাশয়ের পেশিতে দুর্বলতা থাকলে এমনটি হতে পারে।

লক্ষণ:

যৌন মিলনের পর বীর্যপাত না হওয়া বা খুব কম বীর্যপাত হওয়া।
অর্গাজমের অনুভূতি ঠিক থাকা সত্ত্বেও বীর্য বের না হওয়া।
বীর্যপাতের পর মূত্র ঘোলাটে (cloudy) হওয়া, কারণ মূত্রের সাথে শুক্রাণু মিশে থাকে।
চিকিৎসা: যদি কোনো ওষুধের কারণে এই সমস্যা হয়, তবে ওষুধ পরিবর্তন করলে এটি ঠিক হতে পারে। যদি স্নায়ুর ক্ষতির কারণে হয়, তবে কিছু ওষুধ দিয়ে মূত্রাশয়ের পেশি শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হয়। যদি কোনো চিকিৎসা কাজ না করে, তাহলে সহায়ক প্রজনন পদ্ধতি (ART) ব্যবহার করা যেতে পারে, যেখানে মূত্রাশয় থেকে শুক্রাণু সংগ্রহ করে তা ডিম্বাণু নিষিক্ত করার জন্য ব্যবহার করা হয়।

২. অ্যানিজাকুলেশন (Anejaculation)

এই অবস্থায় একজন পুরুষ যৌন উত্তেজনার চরম পর্যায়ে পৌঁছালেও কোনোভাবেই বীর্যপাত করতে পারেন না।

প্রকারভেদ ও কারণ:

অবস্ট্রাকটিভ (Obstructive): এক্ষেত্রে শুক্রাণু তৈরি হয়, কিন্তু নালীর কোনো ব্লকেজের কারণে বীর্য বের হতে পারে না। ভ্যাসেকটমি, জন্মগত ত্রুটি বা সংক্রমণের কারণে এমনটা হতে পারে।
নন-অবস্ট্রাকটিভ (Non-obstructive): এখানে স্নায়ুর সমস্যার কারণে বীর্যপাতের প্রক্রিয়াটি শুরু হয় না। এর কারণগুলো হলো:
(ক) স্নায়বিক ক্ষতি: মেরুদণ্ড বা স্নায়ুতে আঘাত, ডায়াবেটিস, পারকিনসন'স ডিজিজ বা মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের কারণে হতে পারে।
(খ) সার্জারি: প্রোস্টেট বা মূত্রথলির অপারেশনের কারণেও স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
(গ) সাইকোলজিক্যাল: গুরুতর মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, বা ট্রমার কারণেও অ্যানিজাকুলেশন হতে পারে।
চিকিৎসা: কারণ অনুযায়ী এর চিকিৎসা ভিন্ন হয়। স্নায়বিক সমস্যার জন্য ওষুধ বা পেনাইল ভাইব্রেটারি স্টিমুলেশন (penile vibratory stimulation) ব্যবহার করা হয়। যদি তাতেও কাজ না হয়, তাহলে অণ্ডকোষ বা এপিডিডাইমিস থেকে সরাসরি শুক্রাণু সংগ্রহ করে ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (IVF) বা ইন্ট্রা-সাইটোপ্লাজমিক স্পার্ম ইনজেকশন (ICSI) এর মতো পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

৩. অকাল বীর্যপাত (Premature Ejaculation)

অকাল বীর্যপাত হলো যখন একজন পুরুষ তার বা তার সঙ্গীর ইচ্ছা অনুযায়ী খুব দ্রুত বীর্যপাত করেন।
প্রভাব: যদিও অকাল বীর্যপাত সরাসরি শুক্রাণুর গুণগত মান বা সংখ্যায় প্রভাব ফেলে না, এটি গর্ভধারণের সুযোগ কমিয়ে দিতে পারে, বিশেষ করে যদি বীর্যপাত যোনির বাইরে ঘটে। এর কারণে যৌন মিলনের সময় কমে যায়, যা গর্ভধারণের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেয় না।
কারণ: এটি সাধারণত মনস্তাত্ত্বিক কারণ, যেমন - দুশ্চিন্তা, অতিরিক্ত উত্তেজনা, বা পারফরমেন্স অ্যাংজাইটির কারণে হয়ে থাকে। তবে কিছু জৈবিক কারণ, যেমন - হরমোনের তারতম্য, স্নায়ুর সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি বা সংক্রমণও এর জন্য দায়ী হতে পারে।
চিকিৎসা: সাধারণত থেরাপি (যেমন - আচরণগত থেরাপি), মানসিক কাউন্সেলিং, কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ, বা যুগল থেরাপির মাধ্যমে এর চিকিৎসা করা হয়। যদি গুরুতর ক্ষেত্রে গর্ভধারণের সমস্যা হয়, তাহলে ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশনের মতো পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে।

৪. বিলম্বিত বীর্যপাত (Delayed Ejaculation)

এই অবস্থায় বীর্যপাত হতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগে, বা কিছু ক্ষেত্রে একেবারেই হয় না।
প্রভাব: এটি গর্ভধারণের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে, কারণ দীর্ঘ যৌন মিলনের পরও বীর্যপাত না হলে শুক্রাণু ডিম্বাণুর কাছে পৌঁছাতে পারে না।

কারণ:

শারীরিক: স্নায়ুর ক্ষতি, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা (যেমন - কম টেস্টোস্টেরন), বা নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (যেমন - অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টস)।
মানসিক: দুশ্চিন্তা, অবসাদ, বা পারফরমেন্সের চাপ এর মূল কারণ হতে পারে।
চিকিৎসা: শারীরিক কারণের জন্য ওষুধ বা হরমোন থেরাপি এবং মানসিক কারণের জন্য কাউন্সেলিং বা থেরাপি কার্যকর হতে পারে। বীর্যপাতের সমস্যাগুলো সম্পর্কে খোলামেলা আলোচনা করা এবং একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের (ইউরোলজিস্ট বা ফার্টিলিটি স্পেশালিস্ট) পরামর্শ নেওয়া খুব জরুরি।