+8801716-768210    info@azadhomoeohall.com

পুরুষ বন্ধ্যাত্ব রোগের ধরন কি কি

পুরুষ বন্ধ্যাত্ব বলতে বোঝায়, যখন একজন পুরুষ তার সঙ্গীর সাথে নিয়মিত এবং অসুরক্ষিত যৌন মিলনের পরেও সন্তান জন্মদানে অক্ষম হন। এটি বিভিন্ন কারণে হতে পারে। পুরুষ বন্ধ্যাত্বের ধরনগুলো মূলত বন্ধ্যাত্বের কারণের ওপর ভিত্তি করে ভাগ করা হয়।


পুরুষ বন্ধ্যাত্বের প্রধান কারণ ও ধরন

পুরুষ বন্ধ্যাত্বের মূল কারণ হলো শুক্রাণু উৎপাদন, শুক্রাণুর গুণগত মান বা শুক্রাণুর পরিবহনে সমস্যা। এর ওপর ভিত্তি করে বন্ধ্যাত্বকে কয়েকটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়:

১. শুক্রাণু-সম্পর্কিত সমস্যা (Sperm-related issues)

এটি পুরুষ বন্ধ্যাত্বের সবচেয়ে সাধারণ কারণ। এর মধ্যে রয়েছে:
(ক) কম শুক্রাণু উৎপাদন (Oligospermia): বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকা। এর ফলে ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করার জন্য পর্যাপ্ত শুক্রাণু থাকে না।
(খ) শুক্রাণুর গতিশীলতার অভাব (Asthenozoospermia): শুক্রাণুর সাঁতার কাটার বা নড়াচড়ার ক্ষমতা কম থাকা। এর ফলে শুক্রাণু ডিম্বাণুর কাছে পৌঁছাতে পারে না।
(গ) শুক্রাণুর অস্বাভাবিক আকার (Teratozoospermia): শুক্রাণুর আকার বা আকৃতি অস্বাভাবিক হওয়া, যা ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।
(ঘ) বীর্যে শুক্রাণুর অনুপস্থিতি (Azoospermia): বীর্যে একেবারেই কোনো শুক্রাণু না থাকা। এটি দুটি কারণে হতে পারে:
(১) Obstructive Azoospermia: শুক্রাণু তৈরি হলেও কোনো কারণে নালীতে বাধার কারণে বীর্যে মিশতে পারে না।
(২) Non-obstructive Azoospermia: অণ্ডকোষে শুক্রাণু উৎপাদন হয় না বা খুব কম হয়।

২. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা (Hormonal Imbalance)

হরমোনের তারতম্য শুক্রাণু উৎপাদনকে প্রভাবিত করতে পারে। যেমন, টেস্টোস্টেরন (Testosterone) বা পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনের সমস্যা শুক্রাণু উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

৩. শারীরবৃত্তীয় বা কাঠামোগত সমস্যা (Anatomical or Structural Problems)

(ক) ভেরিকোসিল (Varicocele): অণ্ডকোষের শিরাগুলো ফুলে যাওয়া, যা অণ্ডকোষের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং শুক্রাণু উৎপাদন কমিয়ে দেয়। এটি পুরুষ বন্ধ্যাত্বের একটি প্রধান প্রতিরোধযোগ্য কারণ।
(খ) বাধাপ্রাপ্ত নালী (Blocked ducts): শুক্রাণু বহনকারী নালীতে (যেমন, ভাস ডিফারেন্স বা এপিডিডাইমিস) কোনো কারণে বাধা তৈরি হলে শুক্রাণু বীর্যে আসতে পারে না। এটি জন্মগত ত্রুটি, সংক্রমণ বা অস্ত্রোপচারের কারণে হতে পারে।
(গ) অণ্ডকোষের নিচে না নামা (Undescended Testicles): জন্মগতভাবে অণ্ডকোষ অণ্ডথলিতে (scrotum) না নেমে পেটের ভেতরে থাকলে শুক্রাণু উৎপাদন প্রভাবিত হয়।

৪. বীর্যপাতের সমস্যা (Ejaculation Problems)

(ক) রেট্রোগ্রেড ইজাকুলেশন (Retrograde Ejaculation): বীর্য বাইরে না এসে মূত্রথলির (bladder) ভেতরে চলে যাওয়া। এটি ডায়াবেটিস বা কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে হতে পারে।
(খ) অ্যানিজাকুলেশন (Anejaculation): যৌন মিলনের সময় কোনো বীর্যপাত না হওয়া।

৫. জিনগত কারণ (Genetic Factors)

কিছু জিনগত রোগ, যেমন - সিস্টিক ফাইব্রোসিস বা ক্রোমোজোম-সংক্রান্ত অস্বাভাবিকতা পুরুষ বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে।

৬. অন্যান্য কারণ

(ক) সংক্রমণ (Infections): গনোরিয়া বা ক্ল্যামিডিয়ার মতো যৌন সংক্রামিত রোগ বা প্রোস্টেটের প্রদাহ শুক্রাণু উৎপাদন বা চলাচলকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
(খ) জীবনযাত্রার অভ্যাস (Lifestyle Factors): অতিরিক্ত ধূমপান, মদ্যপান, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা, বিষাক্ত রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসা, এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ শুক্রাণুর গুণগত মান কমিয়ে দিতে পারে।
(ঘ) কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ বা চিকিৎসা: কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন থেরাপি, কিছু উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ বা স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে। যদি এক বছর চেষ্টা করার পরেও কোনো দম্পতি সন্তান ধারণে ব্যর্থ হন, তাহলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এই পরামর্শটি বিশেষ করে বন্ধ্যাত্বের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনি বা আপনার সঙ্গী এক বছর চেষ্টা করার পরেও গর্ভধারণে ব্যর্থ হন, তাহলে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।