লিভার মানবদেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ, যা শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। লিভারে অনেক ধরনের রোগ হতে পারে, যা তাদের কারণ, লক্ষণ এবং তীব্রতার উপর নির্ভর করে ভিন্ন হয়।
হেপাটাইটিস বলতে লিভারের প্রদাহকে বোঝায়। এটি সাধারণত ভাইরাস সংক্রমণের
কারণে হয়, যেমন:-
(ক) হেপাটাইটিস এ (Hepatitis A): দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে ছড়ায়।
(খ) হেপাটাইটিস বি (Hepatitis B): সংক্রামিত রক্ত বা শরীরের তরলের মাধ্যমে ছড়ায়।
(গ) হেপাটাইটিস সি (Hepatitis C): সংক্রামিত রক্ত বা শরীরের তরলের মাধ্যমে ছড়ায়।
(ঘ) হেপাটাইটিস ডি (Hepatitis D): শুধুমাত্র হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের উপস্থিতিতে ঘটে।
(ঙ) হেপাটাইটিস ই (Hepatitis E): হেপাটাইটিস এ-এর মতো দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে
ছড়ায়। এছাড়াও, অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন, নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ এবং অটোইমিউন রোগের কারণেও হেপাটাইটিস হতে পারে।
সিরোসিস হলো লিভারের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির চূড়ান্ত পর্যায়, যেখানে লিভারের সুস্থ টিস্যুগুলো দাগযুক্ত টিস্যু (ফাইব্রোসিস) দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। এই দাগযুক্ত টিস্যু লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতাকে ব্যাহত করে। হেপাটাইটিস বি বা সি, দীর্ঘমেয়াদী অ্যালকোহল সেবন এবং নন-অ্যালকোহলযুক্ত স্টেটোহেপাটাইটিস (NASH) সিরোসিসের প্রধান কারণ।
লিভারে অস্বাভাবিক, অস্বাস্থ্যকর কোষের বৃদ্ধি এবং বিস্তারকে লিভার ক্যান্সার বলে। এটি প্রাথমিক লিভার ক্যান্সার হতে পারে (যা লিভারে শুরু হয়) অথবা মাধ্যমিক লিভার ক্যান্সার হতে পারে (যা শরীরের অন্য কোনো অংশ থেকে লিভারে ছড়িয়ে পড়ে)। সিরোসিস এবং দীর্ঘস্থায়ী হেপাটাইটিস বি বা সি সংক্রমণ লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
এই ধরণের রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভুলবশত লিভারের কোষগুলোকে আক্রমণ
করে। এর মধ্যে কিছু সাধারণ প্রকার হলো:
(ক) অটোইমিউন হেপাটাইটিস (Autoimmune Hepatitis): যেখানে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা লিভার
কোষকে আক্রমণ করে প্রদাহ সৃষ্টি করে।
(খ) প্রাথমিক বিলিয়ারি কোলাঞ্জাইটিস (Primary Biliary Cholangitis - PBC): এটি পিত্তনালীর
একটি রোগ, যা লিভারের পিত্তনালীগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
(গ) প্রাথমিক স্ক্লেরোসিং কোলাঞ্জাইটিস (Primary Sclerosing Cholangitis - PSC): এটি পিত্তনালীর
প্রদাহ এবং দাগ সৃষ্টি করে, যা লিভারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
কিছু লিভার রোগ জিনগত কারণে হয়, যেমন:
(ক) হেমোক্রোমাটোসিস (Hemochromatosis): এই রোগে শরীরে অতিরিক্ত আয়রন জমা হয়, যা
লিভারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
(খ) উইলসন রোগ (Wilson's Disease): এই রোগে শরীরে অতিরিক্ত তামা জমা হয়, যা লিভার
এবং মস্তিষ্কের ক্ষতি করতে পারে।
এগুলো লিভারে তরল-ভরা থলি, যা সাধারণত নিরীহ হয় তবে বড় হলে ব্যথা বা অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে। এই বিভিন্ন ধরনের লিভার রোগ তাদের কারণ এবং তীব্রতার উপর নির্ভর করে ভিন্নভাবে চিকিৎসা করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা লিভারের ক্ষতির পরিমাণ কমাতে এবং সুস্থ জীবনযাপন করতে সাহায্য করে।