+8801716-768210    info@azadhomoeohall.com

কিডনির ফিল্টারিং (আইজিএ নেফ্রোপ্যাথি IgA Nephropathy):

আইজিএ নেফ্রোপ্যাথি (IgA Nephropathy), যা বার্গার'স ডিজিজ (Berger's disease) নামেও পরিচিত, হলো কিডনির একটি রোগ। এই রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (immune system) থেকে তৈরি হওয়া ইমিউনোগ্লোবুলিন এ (IgA) নামক অ্যান্টিবডি কিডনির ছাঁকনিগুলোতে (glomeruli) জমা হতে শুরু করে। এই গ্লোমেরুলিগুলো রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ এবং অতিরিক্ত জল ছেঁকে মূত্র তৈরি করে। যখন IgA অ্যান্টিবডিগুলো কিডনির এই ছাঁকনিগুলোতে জমা হয়, তখন সেখানে প্রদাহ (inflammation) এবং ক্ষতি (damage) হয়। এর ফলে কিডনির রক্ত ফিল্টার করার ক্ষমতা কমে যায়।


কারণ

আইজিএ নেফ্রোপ্যাথির সঠিক কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি, তবে এটি একটি অটোইমিউন রোগ বলে মনে করা হয়। অর্থাৎ, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাই ভুল করে নিজের কিডনিকে আক্রমণ করে। কিছু ক্ষেত্রে এটি বংশগত হতে পারে। সাধারণত, ঠান্ডা লাগা, গলা ব্যথা বা শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের পর এই রোগের লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে, কারণ সংক্রমণের সময় IgA অ্যান্টিবডির মাত্রা বেড়ে যায়।

লক্ষণসমূহ

অনেক সময় আইজিএ নেফ্রোপ্যাথির কোনো প্রাথমিক লক্ষণ দেখা যায় না এবং এটি অন্য কোনো কারণে মূত্র বা রক্ত পরীক্ষা করার সময় ধরা পড়ে। তবে কিছু সাধারণ লক্ষণ নিচে দেওয়া হলো:-

(ক) প্রস্রাবে রক্ত (হেমাটুরিয়া): প্রস্রাব গোলাপী বা কোলা রঙের হতে পারে। এটি সাধারণত সংক্রমণ বা কঠোর পরিশ্রমের পর দেখা যায়।
(খ) প্রস্রাবে প্রোটিন (প্রোটিনুরিয়া): এর ফলে প্রস্রাব ফেনা ফেনা হতে পারে।
(গ) শরীরে ফোলাভাব (ইডিমা): বিশেষ করে পা, গোড়ালি, মুখ বা পেটে ফোলাভাব দেখা যেতে পারে।
(ঘ) উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনশন)।
(ঙ) কোমরের পাশে ব্যথা।
(চ) ক্লান্তি এবং দুর্বলতা।

জটিলতা

যদি IgA নেফ্রোপ্যাথির চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে এটি কিডনির মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে এবং এর ফলে কিডনি ফেইলিউর (কিডনি বিকল) হতে পারে। কিছু গুরুতর ক্ষেত্রে ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে।

চিকিৎসা

আইজিএ নেফ্রোপ্যাথির কোনো নির্দিষ্ট নিরাময় নেই, তবে চিকিৎসার লক্ষ্য হলো রোগের অগ্রগতি কমানো এবং কিডনির ক্ষতি রোধ করা। চিকিৎসার মধ্যে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে:-

(ক) রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: রক্তচাপ কমানোর জন্য ওষুধ (যেমন ACE ইনহিবিটর বা ARB) ব্যবহার করা হয়, যা কিডনির উপর চাপ কমায়।
(খ) প্রস্রাবে প্রোটিন কমানো: কিছু ওষুধ প্রোটিনুরিয়া কমাতে সাহায্য করে।
(গ) প্রদাহ কমানো: কিছু ক্ষেত্রে স্টেরয়েড বা অন্যান্য ইমিউনোসাপ্রেসিভ ড্রাগ ব্যবহার করা যেতে পারে।
(ঘ) জীবনযাত্রার পরিবর্তন: লবণ কম খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা রোগ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। বাংলাদেশে কিডনি রোগের চিকিৎসার জন্য অনেক বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এবং হাসপাতাল রয়েছে। যদি এই ধরনের কোনো লক্ষণ থাকে, তাহলে দ্রুত একজন নেফ্রোলজিস্টের (কিডনি বিশেষজ্ঞ) সাথে পরামর্শ করা জরুরি।