+8801716-768210    info@azadhomoeohall.com

আইবিডি (IBD) রোগের ধরন কি কি?

আইবিডি (IBD) বা ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ মূলত পরিপাকতন্ত্রের একটি প্রদাহজনিত রোগ। এটি কোনো একটি নির্দিষ্ট রোগ নয়, বরং বেশ কয়েকটি রোগের একটি সমষ্টি। এই রোগগুলোর মূল বৈশিষ্ট্য হলো পরিপাকতন্ত্রের যেকোনো অংশে দীর্ঘস্থায়ী এবং বারবার প্রদাহ বা জ্বালাপোড়া হওয়া।আইবিডি-এর প্রধানত তিনটি ধরন রয়েছে:


১. ক্রোনস ডিজিজ (Crohn's Disease):

ক্রোনস ডিজিজ একটি অত্যন্ত জটিল রোগ, কারণ এটি মুখ থেকে পায়ুপথ পর্যন্ত পরিপাকতন্ত্রের যেকোনো অংশকে প্রভাবিত করতে পারে। এই রোগের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো:

(ক) অবস্থান:এটি সাধারণত ক্ষুদ্রান্ত্র (বিশেষ করে ইলিয়াম) এবং বৃহদন্ত্রকে প্রভাবিত করে। তবে, পরিপাকনালীর যেকোনো স্থানে এটি হতে পারে।

(খ) প্রদাহের প্রকৃতি:ক্রোনস ডিজিজে প্রদাহ অন্ত্রের দেয়ালের একাধিক স্তরে ছড়িয়ে পড়ে, অর্থাৎ প্রদাহ গভীরে প্রবেশ করে।

(গ) ক্ষতির ধরন:ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলো বিক্ষিপ্তভাবে থাকে, অর্থাৎ মাঝে মাঝে সুস্থ টিস্যুর অংশ থাকতে পারে। একে "স্কিপ লেশনস" (Skip Lesions) বলা হয়।

(ঘ) জটিলতা:এই রোগের ফলে ফিস্টুলা (অন্ত্রের মধ্যে বা অন্য কোনো অঙ্গের সাথে অস্বাভাবিক সুড়ঙ্গপথ), অন্ত্র সরু হয়ে যাওয়া, পুষ্টির অভাব এবং ফোড়া (Abscess) হতে পারে।

২. আলসারেটিভ কোলাইটিস (Ulcerative Colitis):

আলসারেটিভ কোলাইটিস হলো আরেকটি প্রধান আইবিডি রোগ, যা ক্রোনস ডিজিজের থেকে ভিন্ন।

(ক) অবস্থান:এই রোগ শুধুমাত্র বৃহদন্ত্র (large intestine) এবং মলদ্বারে (rectum) সীমাবদ্ধ থাকে।

(খ) প্রদাহের প্রকৃতি: প্রদাহ শুধুমাত্র অন্ত্রের ভিতরের স্তরে (মিউকোসা) হয় এবং এটি গভীরে প্রবেশ করে না।

(গ) ক্ষতির ধরন:প্রদাহটি মলদ্বার থেকে শুরু হয়ে উপরের দিকে লাগাতার ছড়িয়ে পড়ে এবং এতে কোনো সুস্থ অঞ্চল থাকে না। প্রদাহের ফলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ক্ষত বা আলসার সৃষ্টি হয়।

(ঘ) জটিলতা:এই রোগের কারণে মলের সাথে রক্তপাত, পুঁজ বা শ্লেষ্মা বের হতে পারে। কিছু গুরুতর ক্ষেত্রে, বিষাক্ত মেগাকোলন (Toxic Megacolon) বা কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়।

৩. মাইক্রোস্কোপিক কোলাইটিস (Microscopic Colitis):

মাইক্রোস্কোপিক কোলাইটিসও আইবিডি-এর একটি প্রকার। তবে এর লক্ষণগুলো সাধারণত মাইক্রোস্কোপ ছাড়া দেখা যায় না।

(ক) রোগ নির্ণয়:এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে অন্ত্রের ভেতরের অবস্থা স্বাভাবিক মনে হতে পারে, কিন্তু বায়োপসি করে মাইক্রোস্কোপের নিচে পরীক্ষা করলে প্রদাহ ধরা পড়ে। এই কারণে এর নামকরণ হয়েছে মাইক্রোস্কোপিক কোলাইটিস।

(খ) লক্ষণ:এর প্রধান লক্ষণ হলো দীর্ঘস্থায়ী ও পানির মতো ডায়রিয়া। এছাড়াও, কিছু ক্ষেত্রে ডাক্তাররা যখন ক্রোনস ডিজিজ এবং আলসারেটিভ কোলাইটিসের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করতে পারেন না, তখন সেই অবস্থাকে ইনডিটারমিনেট কোলাইটিস (Indeterminate Colitis) বলা হয়।
আইবিডি-এর সব ধরনের ক্ষেত্রে, সঠিক রোগ নির্ণয় এবং নিয়মিত চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট (পাকস্থলী ও অন্ত্র বিশেষজ্ঞ) রোগের ধরন নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি, যেমন - প্রদাহ কমানোর ওষুধ, ইমিউনোসাপ্রেস্যান্ট (রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দমনকারী) ওষুধ বা ক্ষেত্রবিশেষে সার্জারি নির্ধারণ করে থাকেন।