আইবিডি (IBD) এর পূর্ণরূপ হলো ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ (Inflammatory Bowel Disease)। এটি এক ধরনের দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) প্রদাহজনিত রোগ যা পরিপাকতন্ত্রকে প্রভাবিত করে। আইবিডি এক ধরনের অটোইমিউন রোগ হিসেবে বিবেচিত, যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভুল করে নিজেরই পরিপাকতন্ত্রের কোষগুলোকে আক্রমণ করে, যার ফলে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ এবং ক্ষতি হয়।
১. আলসারেটিভ কোলাইটিস (Ulcerative Colitis - UC): এই রোগে মূলত বৃহৎ অন্ত্র (Large Intestine) বা কোলন এবং মলদ্বার (Rectum) এর ভেতরের আস্তরণে (lining) প্রদাহ এবং আলসার বা ক্ষত হয়। প্রদাহ সাধারণত কোলনের নিচ থেকে শুরু হয়ে উপরের দিকে ছড়াতে থাকে এবং শুধুমাত্র কোলনের ভেতরের স্তরকেই প্রভাবিত করে।
২. ক্রোনস ডিজিজ (Crohn's Disease - CD): এই রোগ পরিপাকতন্ত্রের যেকোনো অংশকে প্রভাবিত করতে পারে, মুখ থেকে শুরু করে মলদ্বার পর্যন্ত। তবে এটি সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে ক্ষুদ্রান্ত্র (Small Intestine) এবং বৃহৎ অন্ত্রের শেষ অংশকে (Ileum and Colon)। ক্রোনস ডিজিজের ক্ষেত্রে প্রদাহ অন্ত্রের দেয়ালের গভীরে প্রবেশ করতে পারে এবং এর ফলে আলসার, ফিস্টুলা (অন্ত্রের বিভিন্ন অংশের মধ্যে অস্বাভাবিক সংযোগ) এবং স্ট্রিকচার (অন্ত্রের সংকীর্ণতা) তৈরি হতে পারে।
(১) দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া প্রায়শই মলত্যাগের তাড়াহুড়ো থাকে এবং মলে রক্ত বা শ্লেষ্মা থাকতে পারে।
(২) পেটে ব্যথা ও খিঁচুনি: এটি হালকা থেকে তীব্র হতে পারে এবং সাধারণত পেটের উপরের অংশে বা নিচের অংশে হয়।
(৩) মলদ্বারে রক্তপাত: এটি আলসারেটিভ কোলাইটিসের একটি সাধারণ লক্ষণ।
(৪) ক্লান্তি: দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ এবং পুষ্টির অভাবে চরম ক্লান্তি অনুভব করা।
(৪) ওজন হ্রাস:ক্ষুধা কমে যাওয়া এবং পুষ্টি শোষণে সমস্যার কারণে অনিচ্ছাকৃত ওজন কমে যাওয়া।
(৪) ক্ষুধা কমে যাওয়া:প্রদাহ এবং অস্বস্তির কারণে খাওয়ার ইচ্ছা কমে যাওয়া।
(৪) জ্বর:শরীরের প্রদাহের কারণে জ্বর আসতে পারে।
(৮) রক্তশূন্যতা (Anemia): রক্তক্ষরণ এবং পুষ্টি শোষণে সমস্যার কারণে রক্তশূন্যতা দেখা দিতে
আইবিডি এর সঠিক কারণ এখনও অজানা। তবে, বিজ্ঞানীরা মনে করেন এটি একাধিক কারণের সম্মিলিত প্রভাবে ঘটে:
(১) জেনেটিক কারণ (Genetic Factors):যদি পরিবারের কারো আইবিডি থাকে, তবে আপনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। প্রায় ২০০টিরও বেশি জিনগত পরিবর্তনের সাথে আইবিডি-এর সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
(২) অটোইমিউন প্রতিক্রিয়া (Autoimmune Response):শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে অন্ত্রের সুস্থ কোষগুলোকে আক্রমণ করে এবং প্রদাহ সৃষ্টি করে।
(৩) পরিবেশগত কারণ (Environmental Factors):কিছু পরিবেশগত কারণ, যেমন খাদ্যাভ্যাস (বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাত খাবার), ধূমপান (যা ক্রোনস ডিজিজের ঝুঁকি বাড়ায়), এবং কিছু ওষুধের ব্যবহার (যেমন NSAIDs), আইবিডি বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে।
(৪) অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম (Gut Microbiome):অন্ত্রে বসবাসকারী ব্যাকটেরিয়া এবং অন্যান্য অণুজীবের ভারসাম্যহীনতা আইবিডি-এর বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে। আইবিডি একটি গুরুতর অবস্থা এবং এর জন্য সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি। যদি কারো উপরের লক্ষণগুলো থাকে, তবে দ্রুত একজন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টের সাথে পরামর্শ করা উচিত।