+8801716-768210    info@azadhomoeohall.com

ফিস্টুলা রোগ কি

ফিস্টুলা হলো এক ধরনের অস্বাভাবিক রোগ, যেখানে শরীরের দুটি অঙ্গের মধ্যে অথবা কোনো অঙ্গ এবং ত্বকের মাঝে একটি কৃত্রিম সুড়ঙ্গ বা নালীপথ তৈরি হয়। এই সুড়ঙ্গপথের মাধ্যমে এক অঙ্গের তরল বা পদার্থ অন্য অঙ্গে প্রবেশ করে, যা বিভিন্ন ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করে। ফিস্টুলা নিজে থেকে সেরে ওঠে না এবং সাধারণত এর চিকিৎসার জন্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়।


ফিস্টুলার কারণ

ফিস্টুলা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলো হলো:
(১) সংক্রমণ: এটি ফিস্টুলার প্রধান কারণ। যেমন, মলদ্বারের ভেতরের গ্রন্থিগুলোতে সংক্রমণ হয়ে ফোড়া বা অ্যাবসেস তৈরি হলে, সেই ফোড়া ফেটে গেলে একটি নালীপথ তৈরি হতে পারে।
(২) অস্ত্রোপচারজনিত জটিলতা: কোনো অস্ত্রোপচার, যেমন পেটের বা প্রজনন অঙ্গের অস্ত্রোপচারের পর সঠিকভাবে ক্ষত না শুকালে ফিস্টুলা হতে পারে।
(৩) রোগ: কিছু বিশেষ রোগ, যেমন ক্রোনস ডিজিজ (Crohn's Disease) বা যক্ষ্মা (Tuberculosis), ফিস্টুলার ঝুঁকি বাড়ায়। এই রোগগুলো অন্ত্রে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা থেকে ফিস্টুলা তৈরি হতে পারে।
(৪) আঘাত: কোনো স্থানে মারাত্মক আঘাত পেলে বা রেডিয়েশন থেরাপির কারণেও ফিস্টুলা তৈরি হতে পারে।
(৫) জন্মগত ত্রুটি: কিছু শিশু জন্মগতভাবে ফিস্টুলা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে, যেমন খাদ্যনালী ও শ্বাসনালীর মধ্যে ফিস্টুলা।

ফিস্টুলার লক্ষণ

ফিস্টুলার লক্ষণ তার অবস্থানের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। তবে কিছু সাধারণ লক্ষণ আছে যা থেকে এই রোগটি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়:
(ক) আক্রান্ত স্থান থেকে পুঁজ, রক্ত, বা অন্য ধরনের তরল পদার্থের নিঃসরণ।
(খ) আক্রান্ত স্থানের চারপাশে ব্যথা, ফোলাভাব, এবং লালচে ভাব।
(গ) জ্বর বা ঠাণ্ডা লাগা।
(ঘ) আক্রান্ত স্থান থেকে দুর্গন্ধযুক্ত তরল নির্গত হওয়া।
(ঙ) পেটে ব্যথা, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য।
(চ) যদি মূত্রথলিতে ফিস্টুলা হয়, তবে মূত্রত্যাগের সময় ব্যথা অনুভব করা।

ফিস্টুলার প্রকারভেদ

ফিস্টুলা তার অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। এর মধ্যে কিছু প্রধান ধরন নিচে আলোচনা করা হলো:
(১) অ্যানাল ফিস্টুলা (Anal Fistula): এটি মলদ্বার বা পায়ুপথের সাথে তার চারপাশের ত্বকের মধ্যে একটি নালী তৈরি করে। এটি সবচেয়ে পরিচিত এবং সাধারণত ফোড়া থেকে তৈরি হয়।
(২) এন্টারোকিউটেনিয়াস ফিস্টুলা (Enterocutaneous Fistula): এটি পাকস্থলী বা অন্ত্রের কোনো অংশের সাথে ত্বকের মধ্যে একটি অস্বাভাবিক সংযোগ তৈরি করে।
(৩) ভেসিকোভেজিনাল ফিস্টুলা (Vesicovaginal Fistula): এটি মূত্রথলি এবং যোনির মধ্যে একটি নালীপথ তৈরি করে, যার ফলে মূত্র যোনিপথ দিয়ে নির্গত হয়।
(৪) রেক্টোভেজিনাল ফিস্টুলা (Rectovaginal Fistula): এটি মলদ্বার এবং যোনির মধ্যে সংযোগ তৈরি করে, যার ফলে গ্যাস বা মল যোনিপথ দিয়ে নির্গত হয়।
(৫) ট্রাকিওএসোফেজিয়াল ফিস্টুলা (Tracheoesophageal Fistula): এটি শ্বাসনালী এবং খাদ্যনালীর মধ্যে একটি সংযোগ, যা সাধারণত জন্মগতভাবে হয়ে থাকে।

রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

ফিস্টুলা নির্ণয়ের জন্য সাধারণত শারীরিক পরীক্ষা এবং কিছু বিশেষ পরীক্ষা, যেমন এন্ডোস্কোপি, ফিস্টুলোগ্রাম (এক ধরনের এক্স-রে), সিটি স্ক্যান, বা এমআরআই করা হয়। ফিস্টুলার কার্যকর চিকিৎসা হলো অস্ত্রোপচার (Surgery)। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অস্বাভাবিক নালীটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফিস্টুলার ধরন, অবস্থান এবং এর জটিলতার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রোপচার পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। ফিস্টুলা একটি জটিল রোগ এবং এটি সঠিকভাবে নির্ণয় ও চিকিৎসা করা না হলে বারবার ফিরে আসতে পারে। তাই এই ধরনের কোনো লক্ষণ দেখা গেলে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ সার্জনের পরামর্শ নেওয়া উচিত।