+8801716-768210    info@azadhomoeohall.com

ডায়াবেটিস রোগ কি?

ডায়াবেটিস রোগ, চিকিৎসা পরিভাষায় যাকে ডায়াবেটিস মেলিটাস (Diabetes Mellitus) বলা হয়, এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) রোগ যেখানে শরীরের রক্তে শর্করার (গ্লুকোজ) মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে। এর কারণ হলো শরীর পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না, অথবা উৎপাদিত ইনসুলিন কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে না, অথবা উভয়ই।


১. গ্লুকোজ এবং ইনসুলিন:

গ্লুকোজ: আমরা যে খাবার খাই, তা থেকে আমাদের শরীর গ্লুকোজ তৈরি করে। এই গ্লুকোজ আমাদের শরীরের কোষগুলোর প্রধান শক্তির উৎস।
ইনসুলিন: এটি একটি হরমোন, যা অগ্ন্যাশয় (Pancreas) নামক একটি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। ইনসুলিনের কাজ হলো রক্ত থেকে গ্লুকোজকে কোষে প্রবেশ করতে সাহায্য করা, যাতে কোষগুলো শক্তি উৎপন্ন করতে পারে। এটি রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

২. ডায়াবেটিস রোগের মূল সমস্যা:

ডায়াবেটিস হলে নিম্নলিখিত যেকোনো একটি বা উভয় সমস্যা দেখা দিতে পারে-

ইনসুলিনের অপর্যাপ্ত উৎপাদন: অগ্ন্যাশয় পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না।
ইনসুলিন প্রতিরোধ (Insulin Resistance): শরীর ইনসুলিনের প্রতি সঠিকভাবে সাড়া দিতে পারে না, অর্থাৎ কোষগুলো ইনসুলিনের সাহায্যে গ্লুকোজ গ্রহণ করতে পারে না। এই উভয় ক্ষেত্রেই গ্লুকোজ কোষের ভিতরে প্রবেশ করতে না পেরে রক্তে জমা হতে থাকে, যার ফলে রক্তের শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে রক্তে উচ্চ শর্করার মাত্রা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে, যেমন - হৃৎপিণ্ড, রক্তনালী, চোখ, কিডনি এবং স্নায়ুতন্ত্র।

৩. ডায়াবেটিসের প্রধান প্রকারভেদ:

ডায়াবেটিসের কয়েকটি প্রধান প্রকার রয়েছে-

(ক) টাইপ ১ ডায়াবেটিস (Type 1 Diabetes):এটি একটি অটোইমিউন রোগ, যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদনকারী বিটা কোষগুলোকে আক্রমণ করে এবং ধ্বংস করে দেয়। এর ফলে শরীর একেবারেই ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না। এটি সাধারণত শিশু বা তরুণদের মধ্যে দেখা যায়, তবে যেকোনো বয়সে হতে পারে। এই ধরনের ডায়াবেটিস রোগীদের বেঁচে থাকার জন্য প্রতিদিন ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়।

(খ) টাইপ ২ ডায়াবেটিস (Type 2 Diabetes): এটি ডায়াবেটিসের সবচেয়ে সাধারণ প্রকার (প্রায় ৯০-৯৫% ক্ষেত্রে)। এই ক্ষেত্রে শরীর হয় পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না, অথবা উৎপাদিত ইনসুলিন কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে না (ইনসুলিন প্রতিরোধ)। এটি সাধারণত মধ্যবয়স্ক বা বয়স্কদের মধ্যে দেখা যায়, তবে শিশুদের মধ্যেও এর প্রকোপ বাড়ছে। স্থূলতা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং বংশগত প্রবণতা এর প্রধান ঝুঁকির কারণ। প্রথমদিকে জীবনযাত্রার পরিবর্তন (খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়াম) এবং মুখে খাওয়ার ওষুধের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে, তবে কিছু ক্ষেত্রে ইনসুলিনের প্রয়োজন হতে পারে।

৩. গর্ভকালীন ডায়াবেটিস (Gestational Diabetes - GDM):

এটি গর্ভাবস্থায় প্রথমবার দেখা যায় এবং সাধারণত প্রসবের পর চলে যায়। গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে শরীর ইনসুলিনকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হলে মা ও শিশুর জন্য ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং পরবর্তীতে মা ও শিশু উভয়েরই টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৪. ডায়াবেটিসের সাধারণ লক্ষণ:

বৈশিষ্ট্য বিনাইন টিউমার (Benign Tumor)
ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া (বিশেষ করে রাতে)
প্রচণ্ড তৃষ্ণা পাওয়া
অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগা
অকারণ ওজন কমে যাওয়া
ক্লান্ত অনুভব করা
দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া
ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া
ত্বকের সংক্রমণ, চুলকানি বা পুনরাবৃত্ত ইস্ট সংক্রমণ
হাত বা পায়ে অসাড়তা বা ঝিনঝিন করা

৫. গুরুত্বপূর্ণ:

ডায়াবেটিস একটি গুরুতর রোগ। যদি চিকিৎসা না করা হয়, তবে এটি কিডনি রোগ, হৃদরোগ, স্ট্রোক, স্নায়ুর ক্ষতি, অন্ধত্ব এবং পায়ের গুরুতর সমস্যা (যা অঙ্গচ্ছেদ পর্যন্ত গড়াতে পারে) সহ বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করে সুস্থ জীবনযাপন করা সম্ভব।